কনটেন্টটি শেষ হাল-নাগাদ করা হয়েছে: রবিবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২৬ এ ০৩:০০ PM

সামাজিক নিরাপত্তা অধিশাখা

কন্টেন্ট: পাতা

নামমোশাররফ হোসেন
পদবিপরিচালক (সামাজিক নিরাপত্তা)
ই-মেইলdir.ss@dss.gov.bd
ফোন (অফিস)+৮৮০২৪৪৮২৬৮০১

সমাজের অবহেলিত অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর মৌলিক অধিকার সংরক্ষণ। তাদের শিক্ষা, চিকিৎসা, বাসস্থান ও সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিতকরণ এবং আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নয়ন সর্বোপরি তাদেরকে সমাজের মূল স্রোতধারায় এনে দেশের সার্বিক উন্নয়নে সম্পৃক্তকরণ অতীব জরুরী। পৃথিবীর অন্যান্য কল্যাণ রাষ্ট্রের ন্যায় বাংলাদেশ সরকার সামাজিক নিরাপত্তা কার্যক্রম সুদৃঢ়করণের লক্ষ্যে দেশের দুঃস্থ, অবহেলিত, সুবিধাবঞ্চিত, এতিম, প্রতিবন্ধী এবং অনগ্রসর মানুষের কল্যাণ ও উন্নয়নের ক্ষেত্রে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ব্যাপক ও বহুমুখী কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। সামাজিক নিরাপত্তা বিধানে সরকার সাংবিধানিক দায়িত্বের অংশ হিসেবে সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৫(ঘ) ‘সামাজিক নিরাপত্তার অধিকার, অর্থাৎ বেকারত্ব, ব্যাধি বা পঙ্গুত্বজনিত কিংবা বৈধব্য, মাতাপিতৃহীনতা বা বার্ধক্যজনিত কিংবা অনুরূপ অন্যান্য পরিস্থিতিজনিত আয়ত্তাতীত কারণে অভাবগ্রস্ততার ক্ষেত্রে সরকারী সাহায্যলাভের অধিকার’ এর আলোকে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সমাজসেবা অধিদপ্তরের মাধ্যমে অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে।

জাতীয় সামাজিক নিরাপত্তা কৌশল-২০১৫ (National Social Security Strategy-NSSS) অনুযায়ী সমন্বিত উপায়ে সামাজিক নিরাপত্তা কার্যক্রমর অধীনে প্রদত্ত সুবিধার সুষম বণ্টন, উপকারভোগী নির্বাচন প্রক্রিয়া শক্তিশালীকরণ এবং ইলেকট্রনিক উপায়ে সরাসরি উপকারভোগীদের মোবাইল হিসাব/ব্যাংক হিসাব নম্বরে Government to Person (G2P) Payment পদ্ধতিতে আর্থিক সুবিধা প্রদানের নিমিত্ত অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর সুষম উন্নয়নকল্পে ইত:পূর্বে প্রণীত চা-শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন নীতিমালা-২০১৩, হিজড়া জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন বাস্তবায়ন নীতিমালা-২০১৩ এবং দলিত, হরিজন ও বেদে জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন নীতিমালা-২০১৩ একত্রিত করে অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন সমন্বিত নীতিমালা-২০২৫ প্রণয়ন করা হয়েছে।

“অনগ্রসর জনগোষ্ঠী” অর্থ চা-শ্রমিক, হিজড়া, বেদে এবং সমাজের বিভিন্ন অনগ্রসর সম্প্রদায় যেমন- জেলে, নিকারী, কৈরী, গড়, সন্যাসী, পাটনী, কুশিয়ারি, ঋষি, কায়পুত্র/কাওরা, কাহার, তাঁতী, বেহারা, পাটিকর, চৌদালী, নরসুন্দর/নাপিত, ডোমার, চুনারু/চুনকর, গোয়ালা, ডোম, কুমার, তেলুগু, হাজাম, রাউত, কুশিয়ারি, দেববর্মা, অহমিয়া, কাহার, জলদাস, মালাকার, কানপুরী, কামার, নমঃশুদ্র, অলমিক, কৈবর্ত, পরবাসী, কাপালিক, নায়েক, পৌন্ড্রক্ষত্রিয়/পোদ, রাজভর, বাউরি, বাওয়ালী, বীন, বুনো, বুনাজ, বাঁশফোর, বিন্দু, ভগবানীয়া/কর্তাভজা,ভুনজার, মাসুয়ারা, মান্তা, মৌয়াল, যুগী/নাথ, রজকদাস/ধোপা, রাজবংশী, রানাকর্মকার, রবিদাস, লিঙ্গম, শব্দকর, সিং, হাজরা, হাঁড়ি, হেলা, বাল্মিকী, লালবেগী, ছাপরাইতা, মাঘাইয়া, আগারিয়া, বেলদার, কাদার, জালো, বাহেলিয়া, কারেঙ্গা, রাভা, বাদোয়ার, মাল, মাহার, মেচ, বাইতি, শুঁড়ি, দোষাদ, সুতার, মালী, কোটাল, তিওর, নাট, বাদ্যকর, কলু, নাকাসী, ধুনকর, মশালচী, চর্মকার, ভৌমিক, ভগত. মাটিয়াল, গাছি ইত্যাদি অনগ্রসর জনগোষ্ঠী হিসেবে বিবেচিত হবে। এছাড়া সরকার কর্তৃক সময়ে সময়ে বাস্তবতার নিরীখে কোন সম্প্রদায়কে অনগ্রসর ঘোষণা করা হলে তাও এ জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত হবে;

কর্মসূচির সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্যসমূহ :

১.আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন;

২. দারিদ্র বিমোচনে সহায়তা;

৩. আর্থিক সহায়তার মাধ্যমে মনোবল জোরদারকরণ;

৪. সেবাসমূহে প্রবেশগম্যতা নিশ্চিতকরণ;

৫. ক্ষমতায়ন এবং শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে মূল স্রোতধারায় আনয়ন;

৬. পরিবার ও সমাজে মর্যাদা বৃদ্ধি।

কার্যক্রমসমূহ:

(ক) বিশেষ ভাতা প্রদান; ভাতার হার ৬৫০ টাকা

(খ) শিক্ষা উপবৃত্তি প্রদান; স্কুলগামী শিক্ষার্থীদের মাসিক হারে প্রাথমিক স্তরে ৭০০ টাকা, মাধ্যমিক স্তরে ৮০০ টাকা, উচ্চমাধ্যমিক স্তরে ১০০০ টাকা এবং উচ্চতর স্তরে ১২০০ টাকা প্রদান।

(গ) প্রশিক্ষণ ও প্রশিক্ষণোত্তর অনুদান/আর্থিক সহায়তা/উপকরণ (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে) প্রদান। মাথাপিছু ৫০,০০০ টাকা করে প্রশিক্ষণোত্তর আর্থিক সহায়তা প্রদান।

বরাদ্দ:

১. বয়স্কভাতা- ৬১০০০০০ জন
২. বিধবা ও স্বামী নিগৃহিতা মহিলা ভাতা- ২৯০০০০০ জন
৩. প্রতিবন্ধী ভাতা- ৩৪ লক্ষ ৫০ হাজার জন
৪. প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষা উপবৃত্তি কর্মসূচি- ৮১০০০ জন।

৫. চা শ্রমিকদেরজীবনমান উন্নয়নকর্মসূচি
(ক) বিশেষ ভাতা- ১৩৭০০০ জন
(খ) উপবৃত্তি – ৫০০০জন
৬. হিজড়া জনগোষ্ঠীরজীবনমান উন্নয়নকর্মসূচি-
(ক) বিশেষ ভাতা- ১২২২৯ জন
(খ) উপবৃত্তি – ৪০০জন
৭. বেদে জনগোষ্ঠীরজীবনমান উন্নয়নকর্মসূচি-
(ক) বিশেষ ভাতা- ৬১60 জন
(খ) উপবৃত্তি – ৪৮৩৮জন
৮. অনগ্রসর জনগোষ্ঠীরজীবনমান উন্নয়নকর্মসূচি-
(ক) বিশেষ ভাতা- ৬৬০০০ জন
(খ) উপবৃত্তি – ৩১৯০২জন

৯. ক্যান্সার, কিডনী, লিভার সিরোসিস, স্ট্রোকে প্যারালাইজড, জন্মগত হৃদরোগ এবং থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত রোগীদের আর্থিক সহায়তা কর্মসূচিতে বাৎসরিক এককালীন ৫০,০০০ টাকা করে ৪০,০০০ জন দুরারোগ্য রোগী আর্থিক সহায়তা পাবেন।

সামাজিক নিরাপত্তা অধিশাখা আওতাধীন জনবল কাঠামো

০১ জন পরিচালক, ৪ জন অতিরিক্ত পরিচালক, ৬ জন উপপরিচালক, ৮ জন সহকারী পরিচালক, ৯ জন সমাজসেবা অফিসার, ০৮ জন প্রশাসনিক কর্মকর্তাসহ সর্বমোট ৬৮ (আটষট্টি) জনের জনবল নিয়ে সামাজিক নিরাপত্তা অধিশাখা পরিচালিত হচ্ছে।

এক্সেসিবিলিটি

স্ক্রিন রিডার ডাউনলোড করুন