সমাজসেবা অধিদফতর গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
সর্ব-শেষ হাল-নাগাদ: ২nd সেপ্টেম্বর ২০২১

প্রবেশন এন্ড আফটার কেয়ার সার্ভিস

পটভূমি

সাধারণত অপরাধ বলতে আইন দ্বারা নিষিদ্ধ ও দন্ডনীয় কাজকে বোঝায়। অর্থাৎ রাষ্ট্র কর্তৃক প্রণীত ও বলবৎকৃত আইনের পরিপন্থী এবং দন্ডনীয় যে কোন কাজই অপরাধ। এটি একটি সামাজিক ব্যাধি। কখনও মন্দ পরিবেশ-পরিস্থিতি ও অসৎ সঙ্গের প্রভাবে, কখনও অজ্ঞানতার বশবর্তী হয়ে, আবার কখনও সজ্ঞানে অপরাধের সাথে মানুষ জড়িয়ে পড়ে। প্রতিটি সভ্য দেশের ন্যায় আমাদের দেশেও অপরাধীদের বিচার ও শাস্তি প্রদানের বিধান রয়েছে। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, শাস্তি অপরাধ প্রতিরোধে সহায়ক না হয়ে অপরাধ বিস্তারে সহায়ক হয়।  অপরাধের দায়ে কোন অপরাধীকে যখন কোন কারাগারে প্রেরণ করা হয়, কারাগারে থাকাকালীন সময়ে সে অন্যান্য দাগী অপরাধীদের সংস্পর্শে এসে  মারাত্মক ধরনের অপরাধের অভিজ্ঞতা ও ক্ষতিকর কুশিক্ষা  লাভ করে থাকে। অপরাধ বিশেষজ্ঞ ও আধুনিক চিন্তাবিদগণ অপরাধ সংশোধনের ক্ষেত্রে একজন অপরাধীর শাস্তিদান ব্যবস্থার পরিবর্তে সংশোধনমূলক সংশোধন অর্থাৎ শাস্তির পরিবর্তে প্রাথমিক ব্যবস্থা হিসেবে তার নিজ পরিবেশে অর্থাৎ সমাজে রেখেই সংশোধন ও পুনবার্সনমূলক ব্যবস্থা উদ্ভাবন করেছেন। ১৯৬০ সালে “দ্য প্রবেশন অব অফেন্ডার্স অর্ডিন্যান্স” জারীর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে এ কার্যক্রম শুরু হয়।

সমাজসেবা অধিদফতর কর্তৃক পরিচালিত গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্যে ‘প্রবেশন এন্ড আফটার কেয়ার কার্যক্রম’ অন্যতম। ১৯৬০ সালে ‘প্রবেশন অফ অফেন্ডার্স অর্ডিন্যান্স’ জারী এবং ১৯৬২ সালে ২য় পাঁচশালা পরিকল্পনাধীন সংশোধনমূলক এ কার্যক্রম চালু হয় এবং ২টি উন্নয়নমূলক প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়। যথা- (১) প্রবেশন অব অফেন্ডার্স প্রকল্প এবং (২) আফটার কেয়ার সার্ভিসেস। বর্তমানে ৬টি সিএমএমকোর্টসহ ৬৪টি জেলায় সর্বমোট ৭০টি ইউনিটে এ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এ কার্যক্রমের আওতায় প্রবেশন অফ অফেন্ডার্স অর্ডিন্যান্স, ১৯৬০ (সংশোধিত ১৯৬৪) ছাড়াও বর্তমানে শিশু আইন, ২০১৩ এবং কারাগারে আটক সাজাপ্রাপ্ত নারীদের বিশেষ সুবিধা আইন, ২০০৬ ও সংশ্লিষ্ট বিধিমালা বাস্তবায়িত হচ্ছে। জেলাপর্যায়ে ৭০ জন প্রবেশন অফিসার ছাড়াও সকল উপজেলা সমাজসেবা অফিসার এবং বিভাগীয় জেলার শহর সমাজসেবা অফিসারগণ প্রবেশন অফিসারের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন।

প্রবেশন 

কোন অপরাধের দায়ে দোষী সাব্যস্ত কোন ব্যক্তি এবং আইনের সাথে সংঘর্ষে আসা কোন শিশুকে কারাগারে না রেখে বিজ্ঞ আদালতের আদেশে শর্ত সাপেক্ষে প্রবেশন অফিসারের তত্ত্বাবধানে তার পরিবার ও সামাজিক পরিবেশে রেখে কৃত অপরাধের সংশোধন ও তাকে সামাজিকভাবে একীভূতকরণের সুযোগ দেয়ার প্রক্রিয়া হচ্ছে ‘প্রবেশন’। এটি একটি অপ্রাতিষ্ঠানিক ও সামাজিক সংশোধনীমূলক কার্যক্রম। এটি অপরাধীর বিশৃঙ্খল ও বেআইনি আচরণ সংশোধনের জন্য একটি সুনিয়ন্ত্রিত কর্মপদ্ধতি। এখানে অপরাধীকে পুনঃঅপরাধ রোধ ও একজন আইন মান্যকারী নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠার জন্য সহায়তা করা হয়।

‘প্রবেশন আদেশ’ বলতে প্রবেশন অব অফেন্ডার্স অর্ডিনেন্স, ১৯৬০ এর ধারা ৫ অথবা শিশু আইন, ২০১৩ এর ধারা ৩৪ উপধারা (৬) এর অধীন কোনো ‘প্রবেশন আদেশ’কে বোঝাবে। বিজ্ঞ আদালত অপরাধের প্রকৃতি, অপরাধীর চরিত্র, ঘটনার পারিপার্শ্বিকতা এবং অপরাধ সংঘটনে তার সংশ্লিষ্টতা বিবেচনা করে প্রবেশন আদেশ প্রদান করে থাকেন।

 

 

 

প্রবেশনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য 

 

  • প্রবেশনারকে আত্মসুদ্ধি করতে সুযোগ দেওয়া ও সাহায্য করা ;
  • সামাজিক ও মনস্তাত্বিক চিকিৎসার মাধ্যমে অর্থাৎ অপরাধের মূল কারণসমূহ নির্ণয়পূর্বক প্রবেশনারের সংশোধনের ব্যবস্থা করা;
  • চারিত্রিক সংশোধনের মাধ্যমে পুনঃঅপরাধ রোধ করতে সহায়তা করা;
  • প্রবেশনারকে শৃঙ্খল জীবনযাপনে সহায়তা করা;
  • একজন আইনমান্যকারী নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে সহায়তা করা;
  • প্রবেশনারের পিতা-মাতা এবং অন্যান্য আত্মীয়-স্বজন ও পাড়া প্রতিবেশীদের মন হতে বিরুপ মনোভাব দূর করে প্রবেশনারের প্রতি সমানুভূতিশীল করে তোলা;
  • সমাজে উৎপাদনশীল ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবার সুযোগ দান করা;
  • মোটিভেশন, কাউন্সেলিং এর মাধ্যমে অপরাধ সম্পর্কে প্রবেশনারকে সচেতন করে তাকে অপরাধ হতে দূরে রাখা;
  • সামান্যতম ভুলের জন্য অপরাধীকে ‘দাগী আসামী’ হিসেবে চিহ্নিত হওয়ার হাত হতে রক্ষা করা;
  • সংশোধনের পর প্রবেশনারকে সমাজে পুনঃএকীকরণ;
  • সমাজে অপরাধের সংখ্যা উত্তরোত্তর কমিয়ে আনা;

 

কিভাবে প্রবেশনের সুযোগ পাওয়া যায়?

প্রবেশন মঞ্জুর করা মূলতঃ বিজ্ঞ আদালতের একটি স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতা। নিম্নলিখিত পদ্ধতিতে একজন অপরাধীর প্রবেশন মঞ্জুর করা হয়:

  • বিজ্ঞ আদালতে বিচার কার্যের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন বা আইনের দৃষ্টিতে দোষী সাব্যস্থ হওয়া বা দোষ স্বীকার করার পর বিজ্ঞ আদালতের কাছে প্রবেশনের সুযোগ পাওয়ার জন্য গোচরীভূত করা যায়।
  • আদালত যদি উপযুক্ত মনে করেন যে, আইনের অধীনে প্রবেশন আদেশের শর্তাবলী পালনে অঙ্গীকারাবদ্ধ করে অপরাধী তার সংশোধন ও পুনর্বাসনে উপকৃত হতে পারে, তখন আদালতে নিয়োজিত প্রবেশন অফিসারকে অপরাধীর বয়স, চরিত্র, বংশ পরিচয়, পারিবারিক পারিপার্শ্বিক তথ্যাদি বা অবস্থাদি তদন্ত করে একটি প্রাক দন্ডাদেশ প্রতিবেদন আদালতের নিকট দাখিল করার অনুরোধ করেন।
  • তদন্তে প্রবেশন অফিসার যদি বুঝতে পারেন যে, অপরাধীর প্রবেশনের বা সমাজভিত্তিক সংশোধনের সুযোগ রয়েছে তা হলে তিনি প্রবেশনের সুপারিশ করেন।
  • উক্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর তা পর্যালোচনা করে যদি বিজ্ঞ আদালতের কাছে প্রতীয়মান হয় যে, অপরাধীকে যদি প্রবেশন বা সমাজভিত্তিক সংশোধনের সুযোগ দেয়া হয়, তাহলে অপরাধী স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারে সেক্ষেত্রে আদালত প্রবেশন মঞ্জুর করতে পারেন;
  • বিজ্ঞ আদালত মামলার কাগজপত্র ও সার্বিক অবস্থা পর্যালোচনা করে  স্ব-উদ্যোগেও প্রবেশন মঞ্জুর করতে পারেন।

 

আফটার কেয়ার সার্ভিস

কারাগার থেকে মুক্ত ব্যক্তি, প্রবেশনে মুক্তি ও অব্যাহতিপ্রাপ্ত ব্যক্তি এবং কারাগারে আটক সাজাপ্রাপ্ত নারীদের সমাজে পুনঃএকীকরণের লক্ষ্যে ‘অপরাধী সংশোধন ও পুনর্বাসন সমিতি’র মাধ্যমে আফটার কেয়ার কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

 

আফটার কেয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে প্রদেয় সেবা

 

  • কারাগার অভ্যন্তরে কয়েদীদের জন্য বয়স্ক শিক্ষা ও ধর্মীয় শিক্ষার ব্যবস্থা করা;
  • খেলাধুলা ও বিনোদনমূলক কর্মসূচি গ্রহণ করা;
  • কারাগার অভ্যন্তরে কয়েদীদের জন্য কুটির শিল্পসহ বিভিন্ন ধরনের যুগোপযোগী প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা;
  • কাউন্সেলিং ও মোটিভেশনাল বৈঠক আয়োজন করা;
  • কারাগার থেকে মুক্তিপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে সামাজিক ও অর্থনৈতিক পুনর্বাসনে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করা;
  • প্রয়োজনবোধে বিভিন্ন প্রকার কাজে নিয়োজিত করে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা ;
  • কয়েদীদের আত্মীয়-স্বজনদের সাথে সংযোগ স্থাপন করে সমাজে প্রতিষ্ঠিত করার ব্যবস্থা করা;
  • প্রয়োজনবোধে কারাগার থেকে মুক্তিপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে এককালীন আর্থিক ঋণ দিয়ে তাদের স্থায়ী আয়ের পথ প্রশস্ত করে দেয়া ;
  • কারাগার থেকে মুক্তিপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে প্রযোজ্য ক্ষেত্রে সমাজসেবা অধিদফতরের বয়স্ক ভাতা, বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা ইত্যাদি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় আনা;
  • অপরাধীদের কল্যাণ সাধনের জন্য বিভিন্ন বিভাগ বা অফিসের মধ্যে সংযোগ সাধন ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা;
  • আর্থিক অস্বচ্ছলতার  দরুন  যে সকল অপরাধী আদালতে জামিন লাভ বা আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ হতে বঞ্চিত হচ্ছে প্রয়োজনবোধে তাদেরকে আর্থিক সাহায্য প্রদান করা;

 

আফটার কেয়ার সার্ভিসের উদ্দেশ্য

  • কারাগার অভ্যন্তরে বয়স্ক শিক্ষা ও ধর্মীয় শিক্ষার মাধ্যমে অপরাধের কুফল সম্পর্কে সচেতন ও অপরাধবিমুখ করা;
  • খেলাধুলা ও বিনোদনমূলক কর্মসূচির মাধ্যমে শারীরিক ও মানসিক উৎকর্ষ সাধন করা;
  • কাউন্সেলিং ও মোটিভেশনের মাধ্যমে অপরাধের পুনরাবৃত্তি রোধ করা;
  • প্রশিক্ষণ কর্মসূচির মাধ্যমে আত্মনির্ভরশীল ও উপার্জনক্ষম করে গড়ে তোলা;
  • এককালীন আর্থিক ঋণ কিংবা সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির মাধ্যমে সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে পুনর্বাসন;
  • সমাজে পুনঃএকীকরণ।

 

শিশু আইন ২০১৩ এর আলোকে প্রদেয় সেবা

  • আইনের সাথে সংঘাতে জড়িত শিশুদের জন্য থানা কিংবা শিশু আদালত থেকে অনানুষ্ঠানিক ও অপ্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থাসমূহ যেমন: থানা থেকে মুক্তি, বিকল্প পন্থা, জামিন প্রদানে আইন অনুযায়ী কিংবা আদালতের নির্দেশে ব্যবস্থা গ্রহণ;
  • আইনের সংস্পর্শে আসা শিশু বা সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য বিকল্প পরিচর্যা ও সেবা;
  • প্রাতিষ্ঠানিক পরিচর্যা ব্যবস্থাকে সর্বশেষ ব্যবস্থা হিসেবে বিবেচনা করা এবং তা স্বল্পতম সময়ের জন্য।

 

কার্যক্রম বাস্তবায়ন সংশ্লিষ্টগণ

 

সমাজসেবা অধিদফতরের কার্যক্রম শাখা এ কার্যক্রম দু’টি বাস্তবায়ন করে থাকে। পরিচালক (কার্যক্রম) এর নেতৃত্বে একজন অতিরিক্ত পরিচালক, একজন উপ-পরিচালক, ১ জন সহকারী পরিচালক, সদর দপ্তর পর্যায়ে এবং মাঠপর্যায়ে ৪৪ জন প্রবেশন অফিসার এবং ৪৮৮ জন অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রবেশন অফিসার (উপজেলা সমাজসেবা অফিসার) এ কার্যক্রম বাস্তবায়নের সাথে সংশ্লিষ্ট।

সেবাদান পদ্ধতি

প্রবেশনের ক্ষেত্রে

  • বিজ্ঞ আদালতে সাজাপ্রাপ্ত অপরাধী কর্তৃক আবেদন;
  •  বিজ্ঞ আদালত কর্তৃক প্রবেশন অফিসারকে অপরাধী সম্পর্কে প্রাকদন্ডাদেশ প্রতিবেদন প্রদানের আদেশ;
  •   প্রবেশন অফিসার কর্তৃক প্রাকদন্ডাদেশ প্রতিবেদন দাখিল;
  •  বিজ্ঞ আদালত কর্তৃক প্রবেশন মঞ্জুর (অপরাধী কর্তৃক বন্ড সহি প্রদান সাপেক্ষে);
  •  প্রবেশন মেয়াদে অপরাধীকে কাউন্সেলিং, মনিটরিংসহ তার উন্নয়নের বিষয়ে সার্বিক সহায়তা প্রদান;
  • প্রবেশন অফিসার কর্তৃক নিয়মিত আদালতে প্রতিবেদন দাখিল;
  • প্রবেশন মেয়াদান্তে প্রবেশন অফিসারের প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত কর্তৃক প্রবেশনারকে মুক্তি প্রদান/কারাগারে প্রেরণ;
  • শিশুর ক্ষেত্রে শিশু আইন ২০১৩ এর ধারা ৩৪ উপ-ধারা ৬ মোতাবেক শিশুকে শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে আটক রাখার পরিবর্তে সদাচরণের জন্য শিশু আদালতের আদেশক্রমে প্রবেশন সেবা প্রদান;
  • কারাগারে আটক সাজাপ্রাপ্ত নারীদের বিশেষ সুবিধা আইন ২০০৬ এর আওতায় কারাগারে আটক সাজাপ্রাপ্ত নারীদের তালিকা প্রস্তুত এবং শর্ত স্বাপেক্ষে তাদের মুক্তির বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ;

বিকল্প পন্থা, বিকল্প পরিচর্যা ইত্যাদি ক্ষেত্রে

  • আইনের  সংস্পর্শে  আসা শিশু ও আইনের সাথে সংঘাতে জড়িত শিশুকে সংশ্লিষ্ট থানার শিশু বিষয়ক পুলিশ কর্মকর্তার নিকট প্রেরণ ও বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ;
  • শিশু আইন ২০১৩ এর ধারা ৮৪ ও ধারা ৮৫ মোতাবেক সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের বিকল্প পরিচর্যার ব্যবস্থা গ্রহণ এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিক পরিচর্যা নিশ্চিতকরণ।

আফটার কেয়ারের ক্ষেত্রে

  • প্রবেশন অফিসার কর্তৃক সাজার মেয়াদ অনুযায়ী নিয়মিত কয়েদীদের হালনাগাদ তালিকা প্রস্তুত ও সংরক্ষণ
  • হালনাগাদ তালিকা অনুযায়ী কয়েদীদের উপযোগী শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ;
  • অপরাধ প্রবণতা হ্রাসে নিয়মিত কারাকর্তৃপক্ষ সহযোগে মোটিভেশনাল সভা আয়োজন;
  • অপরাধী সংশোধন ও পুনর্বাসন সমিতি কর্তৃক অনুমোদন সাপেক্ষে কারামুক্ত ব্যক্তিকে আর্থিক সহায়তা প্রদান;
  • প্রযোজ্য ক্ষেত্রে উপজেলা/শহর সমাজসেবা অফিসারের নিকট সুপারিশসহ আবেদনপত্র প্রেরণ;
  •  উপজেলা/শহর সমাজসেবা অফিস কর্তৃক সুদমুক্ত ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রমের আওতায় সহায়তা প্রদান;
  • প্রযোজ্য ক্ষেত্রে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় ভাতা গ্রহণে সহায়তা দান;
  • কারাগার থেকে মুক্তিপ্রাপ্ত ব্যক্তি, প্রবেশনে মুক্তি ও অব্যাহতিপ্রাপ্ত ব্যক্তি এবং কারাগারে আটক সাজাপ্রাপ্ত নারীদের সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে পুনর্বাসনের নিমিত্ত বিভিন্ন সরকারী-বেসরকারী দপ্তর ও জনপ্রতিনিধিদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ ও সমিতির ফান্ড সংগ্রহ;

 

সেবাদান কেন্দ্র

  • প্রবেশন অফিসারের কার্যালয়, সংশ্লিষ্ট জেলা
  • প্রবেশন অফিসারের কার্যালয়, সিএমএম কোর্ট,
  •  প্রবেশন অফিসার (শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রসমূহ)
  •  উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয় (সকল উপজেলা সমাজসেবা অফিসার, প্রবেশন অফিসারের অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত)
  • বিভাগীয় জেলার শহর সমাজসেবা কার্যালয়সমূহ (প্রবেশন অফিসারের অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত)

 

কার্যক্রম বাস্তবায়ন সংশ্লিষ্টগণ

১. সদর দপ্তর পর্যায়ে : সমাজসেবা অধিদফতরের কার্যক্রম অধিশাখা এ কার্যক্রমবাস্তবায়ন করে থাকে। পরিচালক (কার্যক্রম)- এর নেতৃত্বে একজন অতিরিক্ত পরিচালক, একজন উপ-পরিচালক, ১ জন সহকারী পরিচালক।

২. মাঠ পর্যায়ে: সকল বিভাগের পরিচালক, সকল জেলার উপপরিচালক, ৭০ জন প্রবেশন অফিসার(৬৪টি জেলা ও ৬টি সি এম এম কোর্ট) এবং ৪৯২ জন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রবেশন অফিসার (উপজেলা সমাজসেবা অফিসার) ও বিভাগীয় জেলার শহর সমাজসেবা অফিসারগণ।

সেবাগ্রহিতা

  • প্রবেশন অব অফেন্ডার্স অর্ডিনেন্স, ১৯৬০ অনুযায়ী প্রবেশন আদেশপ্রাপ্ত প্রবেশনার;
  • কারাগার অভ্যন্তরে সাজাপ্রাপ্ত কয়েদী;
  • শিশু আইন ২০১৩ অনুযায়ী আইনের সংস্পর্শে আসা শিশু বা আইনের সাথে সংঘর্ষে জড়িত শিশু;
  • শিশু আইন ২০১৩ অনুযায়ী সুবিধাবঞ্চিত শিশু;
  • কারাগারে আটক সাজাপ্রাপ্ত নারীদের বিশেষ সুবিধা আইন ২০০৬ অনুযায়ী বিশেষ সুবিধা প্রাপ্তির যোগ্য সাজাপ্রাপ্ত নারী।

সেবা প্রদানের সময়সীমা

  • আদালত কর্তৃক নির্ধারিত সময়সীমা
  • সংশ্লিষ্ট আইনসমূহে নির্ধারিত সময়সীমা
  •  অপরাধী সংশোধন ও পুনর্বাসন সমিতি কর্তৃক অনুমোদন প্রাপ্তির ১০ কর্মদিবসের মধ্যে।

 

সংশ্লিষ্ট আই/বিধি/ নীতিমালা

 

১. প্রবেশন অব অফেন্ডার্স অর্ডিনেন্স ১৯৬০ (সংশোধিত ১৯৬৪)

২. কারাগারে আটক সাজাপ্রাপ্ত নারীদের বিশেষ সুবিধা আইন, ২০০৬ 

শিশু আইন, ২০১৩

প্রবেশন অব অফেন্ডার্স রুলস,  ১৯৭১

 

নাগরিকদের অংশগ্রহণের ক্ষেত্র

 

  • কার্যক্রম পরিচালনায় কোন ব্যত্যয় পরিলক্ষিত হলে কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা;
  • কয়েদীদের শিক্ষা, বৃত্তিমূলক ও দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ প্রদানে সহায়তা;
  • অপরাধী সংশোধন ও পুনর্বাসন সমিতিতে যাকাত, দান, অনুদান ইত্যাদি আর্থিক সাহায্য প্রদান;
  •  কাউন্সেলিং এর মাধ্যমে মানসিকতার উন্নয়নে সহায়তা;
  •  মুক্তিপ্রাপ্ত কয়েদী/ প্রবেশনারদের কর্মসংস্থানে সহায়তা;
  •  মুক্তিপ্রাপ্ত কয়েদী/ প্রবেশনারদের আত্মীয়-স্বজনকে খুঁজে বের করায় সহায়তা;
  •  মুক্তিপ্রাপ্ত কয়েদী/ প্রবেশনারদের সমাজে পুনর্বাসনে সহায়তা ইত্যাদি।

 

২০২০-২০২১ অর্থ বছরে সেবা প্রদানের পরিসংখ্যান:

 

সেবা প্রদানকারী কার্যালয়

:

জুলাই ২০২০ হতে জুন ২০২১ পর্যন্ত উপকারভোগীর সংখ্যা

৬৪ জেলায়  মোট ৭০ টি জেলা পর্যায়ের প্রবেশন অফিসারের কার্যালয়সহ সিটি কর্পোরেশনভুক্ত শহর সমাজসেবা কার্যালয়সমূহ ও সকল উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়।

প্রবেশন কেইস

ডাইভারশন সুবিধাপ্রাপ্ত শিশু

বিকল্প পরিচর্যায় সুবিধাপ্রাপ্ত শিশু

মোট সেবাগ্রহীতার সংখ্যা

১৬৭২ টি

 ৫৮৪ টি

৮৭৭ টি

৩১৩৩ টি

 

যার সাথে যোগাযোগ করতে হবে

প্রবেশন কর্মকর্তাদের তথ্য


Share with :

Facebook Facebook